বাংলা হাসির গল্প পড়তে কে না ভালোবাসে? আজ আমরা নিয়ে এসেছি একেবারে — Comedy story বিপিনবাবুর কাণ্ডকারখানা । এই গল্প পড়ে আপনি হেসে গড়াগড়ি খাবেন।

বিপিনবাবু কে
এটি আমার সৃষ্বি একটি মজার চরিত্র। বিপিনবাবু একেবারে দারুণ চরিত্র। বড়ো চশমা, গোল পেট আর চারদিকে অকারণে উপদেশ দেওয়া—এটাই তাঁর স্বভাব। কিন্তু একদিন বাজারে গিয়ে তাঁর জীবনে ঘটে গেল অদ্ভুত এক ঘটনা ।
আমাদের কলোনিতে এক ভদ্রলোক আছেন—বিপিনবাবু। বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই, কিন্তু চেহারাটা এখনও স্কুলছাত্রদের মতো। মাথায় চুলের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি রোজই চুলে নারকেল তেল মেখে বলেন,
“চুল পড়ে না, নতুন গজাচ্ছে।” আমরা হেসে মরি, কিন্তু বিপিনবাবু একেবারেই বিশ্বাস করেন না যে তিনি টাক পড়ছেন।বিপিনবাবুর আরেকটি বড় সমস্যা হলো তাঁর “বুদ্ধির জোর”।
তিনি মনে করেন, পৃথিবীর সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান আছে। ইতিহাস, ভূগোল, রান্নাবান্না, ক্রিকেট—সব কিছুর পণ্ডিত তিনি। তবে বাস্তবে তাঁর জ্ঞান গুগল সার্চের অর্ধেকও নয়।একদিন সকালে বিপিনবাবু বাজারে গেলেন মাছ কিনতে।
হাটে গিয়ে তিনি মাছওয়ালাকে বললেন,— “শোনো, আমাকে একটা রুই দাও, তবে সেটার যেন সাইড প্রোফাইলটা ভালো হয়।”মাছওয়ালা হতবাক, — “সাইড প্রোফাইল মানে?”— “মানে, ফেসবুকে দেব, তাই ছবিতে যেন স্মার্ট লাগে।”লোকজন হেসে গড়িয়ে পড়ল। বিপিনবাবু গম্ভীর মুখে বললেন,— “হাসছো কেন? আজকাল মাছও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্র্যান্ডিং করে। আমি ইনোভেশন করছি।”এমন এক বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের কলোনির জীবন মধুর হয়।আরেকবার পাড়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। সবাই মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে আছে। বিপিনবাবু হঠাৎ ঘোষণা Can’t,— “চিন্তা নেই! আমি সোলার এনার্জির ব্যবস্থা করব।

”সবাই অবাক, এত দ্রুত ব্যবস্থা কোথা থেকে! দেখি তিনি বারান্দায় গিয়ে একটা আয়না নিয়ে বসেছেন। চাঁদের আলো প্রতিফলিত করে ঘরে আনার চেষ্টা করছেন।— “এটা হলো ন্যাচারাল সোলার এনার্জি।”আমরা সবাই হেসে বললাম,—
“ওটা লুনার এনার্জি বিপিনবাবু, সূর্যের আলো নেই, এটা চাঁদের।”তিনি একটুও বিচলিত না হয়ে বললেন,— “সূর্যের আলো থেকেই তো চাঁদের আলো আসে। তো সেটাও সোলারই।”
এমন যুক্তি শুনে কারো আর প্রতিবাদ করার সাহস থাকে না।বিপিনবাবুর স্ত্রী শান্তিবালা দেবী ভদ্রমহিলা, কিন্তু স্বামীর কাণ্ডকারখানায় হাঁপিয়ে উঠেছেন। একদিন বিপিনবাবু হঠাৎ ঠিক করলেন, তিনি যোগগুরু হবেন।
সকালে ছাদের উপর সবাইকে ডেকে এনে বললেন—— “আজ থেকে আপনারা আমার শিষ্য। আমি শিখিয়ে দেব কীভাবে যোগ করলে শরীর চিরকাল তরুণ থাকে।”তিনি প্রথমে পদ্মাসনে বসলেন, তারপর চোখ বন্ধ করে বললেন,—
“এবার আমি ভগবানের সঙ্গে কানেক্ট করব।”কিন্তু হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পিছনে গড়িয়ে পড়লেন—সোজা পানির ড্রামে। মাথা থেকে পা অব্দি ভিজে গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,— “দেখলে তো, এটাই হলো জলযোগ। শরীর ঠান্ডা রাখে।”শান্তিবালা দেবী এতটাই বিরক্ত হলেন যে এরপর থেকে তাঁকে আর ছাদে যোগের ক্লাস করতে দেন না।তবে মজার ব্যাপার হলো,
বিপিনবাবুর এইসব “ভুলভাল জ্ঞান” নিয়েই তিনি সব জায়গায় বিখ্যাত। কলোনির বাচ্চারা তাঁকে খুব ভালোবাসে। কারণ, তাঁরা জানে বিপিনবাবুর সাথে থাকলে হাসির খোরাক অশেষ।একদিন একটা ছেলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল,— “বিপিনকাকা, বলুন তো বিমান কেন উড়ে?”তিনি গম্ভীর হয়ে উত্তর দিলেন,— “বিমান উড়ে কারণ তার পাইলটরা স্কুলে ঘুড়ি ওড়ানো শিখেছিল।”আরেকজন জিজ্ঞাসা করল,— “আকাশ নীল কেন?”— “কারণ সমুদ্রের রঙ আকাশে মিশে গেছে। তাই নীল। মাঝে মাঝে লাল হয় সূর্যের রঙ মিশে গেলে।”সবাই জানে উত্তর ভুল, কিন্তু ওনার ভঙ্গিমা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে কেউই প্রতিবাদ করে না, বরং হেসে কুটিকুটি হয়ে যায়।
এভাবেই আমাদের কলোনির প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছেন বিপিনবাবু। তাঁর মতো মানুষ আসলে বিরল—ভুল করেন, কিন্তু হাসি দেন, আর চারপাশের মানুষকে আনন্দে রাখেন।আমরা তাই প্রায়ই বলি,“যতদিন বিপিনবাবু আছেন, ততদিন আমাদের কলোনিতে দুঃখ ঢুকতে পারবে না।”
বিপীনবাবুর অন্য মজার গল্প :

আমার পাঠকদের জন্য সুন্দর গল্পের অনুপ্রেরণা:
2 thoughts on “Comedy story বিপিনবাবুর কাণ্ডকারখানা”