কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তে একটা পুরনো বাড়ি। নাম—”সোনার কুঠি”। একসময় জমিদারদের প্রাসাদ ছিল, এখন প্রায় ভেঙে পড়েছে। মানুষ বলে, ওখানে কেউ থাকে না।
কিন্তু রাত নামলে জানলার পর্দা যেন নড়ে ওঠে, ছায়া ঘুরে বেড়ায়, আর ভেতর থেকে শোনা যায় চাপা ফিসফাস।রুদ্র, একজন নবীন ফটোগ্রাফার।
সে শহরের রহস্যময় জায়গাগুলোর ছবি তোলে আর ব্লগে লেখে। বহুদিন ধরেই সে “সোনার কুঠি” নিয়ে শুনে আসছিল। অবশেষে এক পূর্ণিমার রাতে, সে ঠিক করল—যাই, দেখে আসি নিজের চোখে।রাত সাড়ে দশটা।
রুদ্র একা, হাতে ক্যামেরা, কাঁধে ব্যাগ, আর বুকভরা সাহস। সে বাড়ির সামনে পৌঁছেই বুঝল—এটা কোনো সাধারণ জায়গা নয়। চারপাশে নিস্তব্ধতা, যেন গাছের পাতাও নিঃশব্দে কাঁপছে।বাড়ির ভেতর ঢোকার মুখেই জংধরা লোহার গেট।
ধাক্কা দিতেই কর্কশ শব্দে খুলে গেল। ভেতরে পা রাখতেই এক অদ্ভুত ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগল। রুদ্র কাঁপল, কিন্তু থামল না।
দোতলার একটা ঘরে গিয়ে সে ক্যামেরা সেট করল। হঠাৎ করেই ক্যামেরার স্ক্রিনে কিছু একটা দেখা গেল। ধূসর ছায়ার মতো একটা অবয়ব! মানুষের মতোই, কিন্তু মুখ নেই, চোখ নেই, শুধু দাঁড়িয়ে আছে দরজার কোণায়।
রুদ্র ভেবেছিল হয়তো আলো-আঁধারির খেলা। সে স্ক্রিন থেকে মুখ তুলতেই, দেখল—সামনেই সেই ছায়া! একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তার দিকে।গলা শুকিয়ে গেল রুদ্রর।
সে পিছু হটতে লাগল, হঠাৎই ছায়াটা নড়ল না, কিন্তু তার ভেতর থেকে একটা গলা শোনা গেল—
“তুই এখানে কেন এলি?”
গলার শব্দ ছিল খালি ঘরের গমগমে দেয়ালের মতো—নরম অথচ আতঙ্কজনক।
রুদ্র কিছু বলার আগেই তার ব্যাগ থেকে একটা পুরনো ছবি খসে পড়ল। ছবিটা রুদ্র আগেই ওই বাড়ির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে পেয়েছিল—একটা পরিবারের ছবি, যাদের সবাই এক রাতেই নিখোঁজ হয়ে যায়।ছায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে এল ছবিটার দিকে। হঠাৎ ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
ছায়াটা ছবির ওপর ঝুঁকে পড়তেই সেটি আগুনে জ্বলে উঠল—কিন্তু রুদ্রর গায়ে কোনো আঁচ লাগল না।
“আমরা বন্দী… এই ছবির মধ্যেই,” গলা আবার শোনা গেল।“আমাদের মুক্ত কর…”রুদ্র চিৎকার করে বেরিয়ে এল। দৌড়াতে দৌড়াতে সে বাড়ির বাইরে এলো, গেট পেরিয়ে রাস্তায় পড়তেই হুঁশ ফিরল।
শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।তিন দিন পর, রুদ্র আবার গেল “সোনার কুঠি”-তে। সঙ্গে নিল সেই ছবিটার ছাই। ঘরের এক কোণায় ছাইগুলো রেখে মন্ত্রপাঠের মতো বলল—
“তোমরা মুক্ত, এবার শান্তি পাও।”সেই মুহূর্তে জানলার পর্দা হেলে পড়ল, যেন কেউ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে গেল।আজও রুদ্রের ব্লগে সেই গল্প আছে। আর ছবিটা?
সেটার ছাই সে এখনো রেখে দিয়েছে একটা কাচের জারে।কারণ, কে জানে—যদি ছায়ামানব ফিরে আসে?
আমাদের অন্য মজার গল্প :

2 thoughts on “Bengali story ছায়ামানব”