একটি শান্ত সকালে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় মাত্র পাঁচ বছরের মেয়ে তিতলি। উঠোন ভরে থাকা হাসি মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে যায় শূন্যতায়। মা রূপার জীবন অন্ধকারে ডুবে যায়, আর শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর খোঁজ—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে অপেক্ষা করছে রহস্য, আতঙ্ক আর অদৃশ্য ছায়া। এই গল্পে রয়েছে মায়ের অদম্য জেদ, হারানোর ব্যথা এবং অজানার ভয়াবহ সাসপেন্স।

হারানো আলো :অধ্যায় ১
হারানো আলো আমার রচিত,একটি ছোট উপন্যাস সকালের আলো তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। চারদিক নরম রোদে ভরে উঠছে, গলির কুকুরগুলো আলস্যে হাই তুলছে। রূপার বাড়ির উঠোনে ছোট্ট তিতলি লাল ফ্রক পরে দৌড়ঝাঁপ করছে।
তার হাসির টুনটুন শব্দ যেন সারা বাড়িকে জীবন্ত করে তুলেছে।রূপা রান্নাঘরে ব্যস্ত, কিন্তু মনের ভেতর কোথাও এক অদৃশ্য সুর বাজছিল—“আমার মেয়ে নিরাপদেই আছে।”
মাঝেমাঝে জানলার ফাঁক দিয়ে সে তাকাচ্ছিল তিতলির দিকে।হঠাৎ—সব থেমে গেল।তিতলির সেই ছটফটে আওয়াজ, লাফঝাঁপের শব্দ, হাসি—সব যেন এক নিমিষে অদৃশ্য হয়ে গেল। উঠোনটা হয়ে উঠল অস্বাভাবিক নীরব।রূপা প্রথমে গা করেনি।
ভেবেছিল, বোধহয় পাশের ঘরে গিয়ে খেলছে। “তিতলি! কোথায় গেলি?”—বলে ডাক দিল। কোনো সাড়া এল না।সে তাড়াহুড়া করে উঠোনে বেরোল। শূন্য। মাটিতে পড়ে আছে শুধু একটা ছোট্ট লাল ফিতের টুকরো, যেটা সকালে তিতলির চুলে বেঁধে দিয়েছিল।রূপার বুক কেঁপে উঠল।
অজানা শীতল স্রোত সারা শরীর বেয়ে নেমে গেল। তার কানে তখন আর কোনো শব্দ পৌঁছাচ্ছিল না—না পাখির ডাক, না গলির হইচই। চারপাশে যেন হঠাৎ শূন্যতার দেয়াল নেমে এসেছে।তিতলি নেই।পুরো উঠোন ফাঁকা।এমন শূন্যতা আগে কখনো রূপা টের পায়নি।
তার মনে হলো, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ গিলে খেয়ে একটা অদৃশ্য অন্ধকার দাঁড়িয়ে আছে তার সামনেই
কিন্তু মিলের ভাঙা জানালা দিয়ে সে অনুভব করল—কেউ বা কিছু এখনও তাদের দিকে নজর রাখছে। হাওয়ায় ভেসে আসছে অদ্ভুত নীরবতা, যেন রাতের ছায়া এখনও রূপার চারপাশে ঘেরা। মনে হলো, এই শূন্যতা শুধু হারানো নয়—এখানে লুকিয়ে আছে আরও গভীর এক রহস্য।
আমাদের অন্য গল্প :
