ছায়ার ডাক : তৃতীয় পর্ব

আমাদের নতুন সাসপেন্স থ্রিলার গল্প নিয়ে ছায়ার ডাক তৃতীয় পর্ব নিয়ে, আমরা হাজির হয়েছি আশা করি আমাদের আগের গল্পর মত আপনারা এটিকেও অনেক ভালোবাসা দেবেন।

ছায়ার ডাক : তৃতীয় পর্ব

তিনি তলোয়ার ফেলে দিলেন নদীতে। জল ছিটকে তার মুখে পড়ল।“তুমি জ্ঞান রক্ষা করেছ, চন্দ্রাবলী,” তিনি বললেন, “আর আমি শুধু ইতিহাসের পাপ হয়ে রইলাম।”দূরে বজ্রপাত হল। নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ল পাথরে। সেই গর্জনের ভেতর রাজাধিরাজের কণ্ঠ হারিয়ে গেল—যেন পৃথিবী নিজেই এই মৃত্যুকে শোক করছে।চন্দ্রাবলীর দেহ ধীরে ধীরে জলে মিলিয়ে গেল, রক্তে ভেসে উঠল কপালে এক ছোট্ট তিলক—যেন ভৈরবের আশীর্বাদ।রাজাধিরাজ হাঁটু গেড়ে বসে কেঁদে উঠলেন।

“ক্ষমা করো… আমি বুঝতে পারিনি।”তার কান্নার সঙ্গে মিলেমিশে নদীর জলে ভেসে এল এক অদৃশ্য কণ্ঠ—“জ্ঞান কারও সম্পদ নয়, রাজা… তা কেবল রক্ষা পায়, অধিকার নয়।”বৃষ্টি থেমে গেল। সূর্যের এক ফালি আলো মেঘ ভেদ করে পড়ল সেই স্থানে, যেখানে চন্দ্রাবলী ছিল কিছুক্ষণ আগে।

রাজাধিরাজ উঠে দাঁড়ালেন—চোখ লাল, মুখে অপরাধবোধ আর শ্রদ্ধার ছায়া।তিনি বুঝলেন, চন্দ্রাবলী মরে যায়নি—সে প্রকৃতিতে মিশে গেছে।আর সেই মুহূর্তেই শুরু হল এক নতুন যুগের সূচনা—যেখানে রাজা শাসন করবেন না তলোয়ারে, বরং প্রায়শ্চিত্তে।

কৃষ্ণনগর, নাদীয়া, রাত ১.৩০

করাতের আকাশে মেঘ জমেছে। দূরে বজ্রপাতের আলোয় মাঝেমাঝে গ্রামের সরু রাস্তা চকচক করে উঠছে। নিস্তব্ধতার ভেতর শুধু শোনা যায় ব্যাঙের ডাক আর মাঝে মাঝে বাতাসে দুলে ওঠা কলাগাছের পাতার শব্দ।এই নীরবতার মাঝেই, মাটির ঘরের ছোট খাট বিছানায় ঘুমিয়ে আছে রুবি—আঠারো বছরের এক ছাত্রী।

তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত, মুখে আতঙ্কের ছায়া। ঠোঁট কাঁপছে, নিঃশব্দে যেন কিছু বলতে চাইছে। কপালে ঘাম জমেছে, চুলের গোছা ভিজে গিয়ে লেগে আছে ত্বকে।স্বপ্নে সে দৌড়াচ্ছে—অরণ্যের ভেতর। চারদিকে ধোঁয়া, আগুন, আর ভারী মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ। অজানা মুখগুলো ছায়ার মধ্যে নড়ছে, কেউ তাকে ডাকছে, কেউ ঠেলছে।

বাতাসে ধূপের গন্ধ, রক্তের গন্ধ, আর সেই লাল আলো—যা হঠাৎ চোখে ঝলসে যায়।তারপর সবকিছু নিঃশব্দ।এক মুহূর্তের জন্য শুধু দেখা গেল এক নারী দাঁড়িয়ে আছে আগুনের বৃত্তের মধ্যে, মুখে অদ্ভুত শান্তি, কিন্তু চোখে অগ্নি। রুবি তাকাতে না তাকাতেই সেই নারী যেন ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল—তার ঠোঁট নড়ল, কিন্তু শব্দ শোনা গেল না।

হঠাৎ রুবির বুকের ভেতর তীব্র ব্যথা। মনে হলো যেন কেউ তার হৃদয় টেনে ধরছে ভিতর থেকে। সে ছটফট করতে লাগল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ঘুমের ঘোরে শরীর কেঁপে উঠল একবার, তারপর আচমকা—সে জেগে উঠল।চোখ দুটো বড় বড়, নিঃশ্বাস ভারী। বুক চেপে ধরে রুবি বিছানায় উঠে বসল।

চারদিকে অন্ধকার, শুধু জানলার ফাঁক দিয়ে একটুখানি চাঁদের আলো এসে পড়ছে দেয়ালে। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে হালকা শব্দে—টুপ… টুপ… টুপ…রুবি থেমে গেল কিছুক্ষণ। তার বুকের ভেতর এখনো ধুকপুক করছে, শরীর ঠান্ডা ঘামে ভিজে গেছে। বাতাসে এক অচেনা গন্ধ—ধূপের মতো, যেন স্বপ্নের সেই জায়গাটা এখানেও এসে পড়েছে।দূরে গ্রামের কুকুর ডাকছে, তারপর সব আবার শান্ত।

ঘরের দেয়ালে টিমটিম করে জ্বলছে কেরোসিনের ছোট্ট বাতিটা। রুবি ধীরে ধীরে কম্বল টেনে নিল শরীরের ওপর। চোখ মেলল ছাদের দিকে, তারপর আবার বন্ধ করল।কিন্তু ঘুম আর এল না। প্রতিবার চোখ বন্ধ করলেই সেই আগুন, সেই অরণ্য, সেই মুখ।রুবি নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রাতের বাতাসে তার শ্বাসের শব্দ মিলিয়ে গেল।বাইরে তখন গ্রাম নিঃশব্দ, কুয়াশায় ঢাকা।

ছায়ার ডাক : তৃতীয় পর্ব সমাপ্ত

দূরের মাঠে বৃষ্টি পড়ছে, আর ছোট ঘরের ভেতর রুবির কপালে এখনো ঘামের ফোঁটা চকচক করছে—অন্ধকারে, নিঃশব্দে, যেন অজানা কোনো স্মৃতি আবার জেগে উঠছে ভেতরে।

ছায়ার ডাক দ্বিতীয় পর্ব ছায়ার ডাক চতুর্থ পর্ব

আমাদের অন্যান্য গল্প

১) কন্যাদান

২) কালকেতু

৩) কমেডি কিং বিপিন বাবু

এছাড়াও সাসপেন্স থ্রিলার এ ব্যাবহারিত বিভিন্ন শব্দ অর্থাৎ কলজাদু ও বিভিন্ন তন্ত্র মন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারত জানতে Wikipedia.com visit করতে পারবেন

Leave a Comment

error: Content is protected !!